বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)

Bajus

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ১৯১৩ সালের কোম্পানী আইনে নিবন্ধিত ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স প্রাপ্ত একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং সেবা মূলক বাণিজ্য সংগঠন। বাজুস, ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর প্রথম শ্রেণির মর্যাদা সম্পন্ন সক্রিয় সদস্যও বটে। স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে, দেশীয় স্বর্ণ শিল্পের প্রসার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কার্যক্রম শুরু হলেও তা বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ১৯৮৪ সালের ২৮ জুলাই শনিবার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমস্থ মার্কেটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। সূচনা লগ্ন থেকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির মুখ্য উদ্দেশ্য গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা, দেশীয় স্বর্ণ শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং জুয়েলারী ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এই লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় বাজুসের জেলা কমিটি রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব করে। কেন্দ্রীয় কমিটি বাণিজ্য সংগঠনের বিধি মোতাবেক গঠিত হয়। যেটি কার্যনির্বাহী কমিটি হিসেবে পরিচিত। এই কমিটিই মূলত সমগ্র বাংলাদেশে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। জেলা কমিটি নিজ নিজ জেলায় কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে। বর্তমানে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির প্রায় ১৮ (আঠারো) হাজার সদস্য রয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির প্রতিটি সদস্যই মূলত এক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যারা বাংলাদেশ সরকার তথা সমিতির নিয়ম কানুন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন।

আন্তর্জাতিক বাজার, দেশীয় বাজার ও ভোক্তা সাধারণের কথা বিবেচনায় এনে বাজুস দেশীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন করে জুয়েলারী শিল্পের বিকাশ ও জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের রূপরেখা প্রণয়ন করে এবং সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতা মূলক ব্যবসা প্রসারের জন্য সরকার নির্ধারিত বিধি-বিধান সদস্যদের মধ্যে প্রচার ও পালনে ভূমিকা রাখে। জুয়েলারী ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করা, বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসার ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিজেদেরকে তুলে ধরতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার এ অংশগ্রহণ ও আয়োজন করা, শিল্প ও শিল্পীর বিকাশের জন্য বিভিন্ন গঠনমূলক কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাও বাজুসের উদ্দেশ্য।

জুয়েলারী বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিল্প যার শিকড় উপমহাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীরে প্রথিত। একটি সম্ভাবনাময়ী ও ঐতিহ্যবাহী খাত হওয়া সত্ত্বেও এদেশে জুয়েলারী শিল্প বিকশিত না হয়ে যখন ক্রমাগত বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে ঠিক তখনই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরী, মাদার অব হিউম্যানিটি বাংলাদেশের সফলতম প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাননীয় অর্থমন্ত্রী (২০১৭-২০১৮) অর্থ বছরের বাজেটে জুয়েলারী শিল্পের জন্য একটি যুগোপযোগী স্বর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের ঘোষনা দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে গেজেট আকারে একটি পূর্ণাঙ্গ, গ্রাহক ও ব্যবসা বান্ধব স্বর্ণ নীতিমালা অনুমোদিত হয়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির মুখ্য উদ্দেশ্য গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা, দেশীয় স্বর্ণ শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং জুয়েলারী ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা এবং বিশ্ব দরবারে এদেশের জুয়েলারী শিল্পের ঐতিহ্য তুলে ধরা ও বিশ্ব বাজারে জুয়েলারী ব্যবসায় নেতৃত্ব প্রদান করা।

 791 total views,  1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *